সমাজ মাধ্যম, পশ্চিমবঙ্গ, ৫ মে সাম্প্রতিকতম ঘটনায়, গুজরাটের আমেদাবাদে প্রায় ৬,০০০ বাঙালিকে আটক করে ডকুমেন্ট চেক করার অজুহাতে কয়েকদিন আটকে রাখে প্রশাসন। অথচ তদন্তের পর জানা যায়, তার মধ্যে মাত্র ৪৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বাকিরা প্রত্যেকেই ভারতীয় নাগরিক। ওই এলাকার চান্দোলা লেকের পাশে থাকা বস্তিগুলিকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়, যেগুলিতে মূলত বাঙালি ভাষাভাষীরা বসবাস করতেন। খবরে প্রকাশ, গুজরাটে বাঙালি দেখলেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, আটকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরিচয়পত্র দেখানোর নামে হয়রানি করা হচ্ছে।
সারা দেশজুড়ে বেড়ে চলেছে তথাকথিত বাংলাদেশি ধরপাকড়ের নামে বাঙালিদের উপর দমন-পীড়নের ঘটনা। সম্প্রতি একের পর এক রাজ্য থেকে উঠে এসেছে বাঙালিদের নিগ্রহ, অপমান এবং অবাঞ্ছিত হেনস্থার চিত্র। এই পরিস্থিতিতে কার্যতই তৎপর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন।
শুধু গুজরাটই নয়, উড়িষ্যাতেও একই ছবি। বিভিন্ন পেশার কাজে গিয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাস আটকে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাঙালি শ্রমিকদের মারধর ও অপমান করা হচ্ছে।
এদিকে আবার সরাসরি বিজেপিকে উড়িষ্যার বাঙালি বিতাড়নের ঘটনায় দায়ী করেছে বাঙালির সংগঠন " আমরা বাঙালি" সংগঠন। সংগঠনের নেতা টপমম বিশ্বাস বলেন " ভারতীয় বাঙালিরা যদি বিদেশি হয় তাহলে বাংলায় বসবাসকারী অবাঙালি অবিলম্বে বাংলা ছাড়ো"
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেও প্রেস বিবৃতিতে বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন " উড়িষ্যায় বাংলায় কোথা বললেই তাকে মারা হচ্ছে, মহারাষ্ট্রেও হয়েছে, উত্তরপ্রদেশেও হয়েছে, বিহারেও হয়েছে, আপনারা অত্যাচার করলেও আমরা করবো না, এটাই আপনাদের সাথে আমাদের তফাৎ, এখানে দেড় কোটি মানুষ বাইরের রাজ্যের থেকে এসে কাজ করেন, এরা সব ধর্মের ও বর্ণের "এখন প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশি চিহ্নিতকরণের নামে কেন বারবার বাঙালিদের নিশানা করা হচ্ছে? জাতিসত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই পরিস্থিতি আরও কতদূর গড়াবে, সেদিকে চেয়ে বাংলার মানুষ।











